শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:২৬ অপরাহ্ন
টিসিবি পণ্য,ফাইল ছবি। সাইফুদ্দীন আল মোবারক,টেকনাফ:
করোনা মহামারির প্রভাব কাটিয়ে ওঠার আগেই দেশে দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়েই চলছে। খেটে খাওয়া মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে ।
এমতাবস্থায় স্বল্পমূল্যে পণ্য ক্রয়ের জন্য (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) টিসিবির পক্ষ থেকে ১কোটি মানুষকে কার্ড দেয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। টিসিবির ওই কার্ডগুলো নিয়েই নির্ধারিত ডিলারের কাছ থেকে স্বল্প মূল্যে পণ্য সংগহ করতে পারে গ্রাহকরা। এরই ধারাবাহিকতায় টেকনাফ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় প্রায় ১৬ হাজার অসহায় পরিবারকে টিসিবির কার্ড প্রদান করা হয়েছে । রমজান মাস শুরু হওয়ার অনেক আগেই এই কার্ডগুলো বিতরণ করা হয়েছিল। কিন্তু এখনো পর্যন্ত এসব কার্ডের সুফল দেখেনি টেকনাফের গ্রাহকরা। এসব কার্ড পেয়েও এখনো পর্যন্ত পণ্য না দেওয়ায় টিবিসির গ্রাহকদের মধ্যে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
টিসিবির কার্ডধারী কয়েকজনের সাথে হলে তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে দোষারূপ করছেন, কেউ কেউ ইউপি চেয়ারম্যান,মেম্বারদের উপরে দোষ চাপাচ্ছেন। সরকার এসব পণ্য দিবে না, এমনি কার্ড দিয়েছে বলেও হতাশা ব্যক্ত করেন এক ব্যক্তি। পুরো দেশে টিসিবি’র গ্রাহকরা পণ্য পেয়েছে, টেকনাফের মানুষের কী অপরাধ ছিল এমন প্রশ্নও করছেন গ্রাহকরা। হামিদা বেগম নামে এক মহিলা জানান,আমি গরীব মানুষ আমার কোনো ছেলে সন্তান নেই,স্বামীও নেই, মানুষের সহযোগিতায় কোনোমতে আল্লাহ চালায়। সরকার কার্ড দিয়ে টিবিসি’র পণ্য দিবে বলে, এখনো কিছু দেয়নি,আমরা এই পণ্যগুলো আদৌ পাব বলে আশা করছি না ।
সূত্র জানায়,টেকনাফ উপজেলার ছয় ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ১৫ হাজার ৯’শ ৭১ জনকে টিসিবি’র কার্ড দেয়া হয়েছে। তৎমধ্যে মাত্র ২হাজার ৯’শ জনকে পণ্য দেয়া হয়েছে। আরো ১৩ হাজার ৭১ জন মানুষ এখনো পণ্যের মুখ দেখেনি। এসব পণ্য গুলো কবে দেয়া হবে সুনির্দিষ্ট সময়ও জানায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন,উপজেলা থেকে কেন পণ্যগুলো দেয়া হচ্ছে না জানি না, তবে এসব পণ্যগুলো রমজান মাসেই খুবই প্রয়োজন । ইদের আগে পণ্যগুলো পেলে অসহায় মানুষের উপকার হতো।
হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী বলেন,এসব তো উপজেলা থেকে দেওয়া হবে ,আমাদের কার্ড বিতরণ করার দায়িত্ব দিয়েছিল, আমরা কার্ড বিতরণ করেছি, কিন্তু উপজেলা থেকে এখনো পণ্য দেয়নি। মানুষ রমজানে একেবারেই অসহায় হয়ে পড়েছে, এই রমজান মাসে টিসিরি’র পণ্যগুলো না দিয়ে পরে দিলে সাধারণ মানুষের কী লাভ হবে এমন প্রশ্নও করেন তিনি।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কায়সার খসরু মুঠোফোনে জানান,টেকনাফে টিসিবি’র কোনো ডিলার নেই,উখিয়াতে একজন আছে তাঁর রয়েছে বিভিন্ন অজুহাত। সে উখিয়াতেই কভারেজ করতে পারছে না।
এদিকে টেকনাফ থেকে ৭জন ডিলারের নামের একটি তালিকা বাণিজ্যমন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, কিন্তু এখনো অনুমোদন পায়নি। তবে চেষ্টা করতেছি, আশা করি রমজানের মধ্যে হবে।
ভয়েস/জেইউ।